Friday, January 3, 2020

একঘরে হয়ে পড়েছে সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমা

পার্বত্য জনসংহতি সমিতির কোন্দল প্রকাশ্য রূপ ধারণ
দৈনিক সংগ্রাম
সোমবার ১২ এপ্রিল ২০১০ | প্রিন্ট সংস্করণ
খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা : পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) অবশেষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জেএসএস'র সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার ঘোষিত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে জেএসএস'র একটি বড় অংশ নিজেদের মূল স্রোতধারা হিসেবে আখ্যায়িত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৮ বছরের অবিভক্ত জেএসএস বিভক্ত হয়ে পড়ায় পার্বত্যবাসীর মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনার ঝড় বইছে। একঘরে হয়ে পড়েছে সন্তু লারমা নিয়ন্ত্রণাধীন জেএসএস। ওদিকে সুধাসিন্ধু খীসার নেতৃত্বাধীন জেএসএস কৌশলগত কারণে ইউপিডিএফ'র সঙ্গে গোপন অাঁতাত করে সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে দ্বিধাবিভক্ত জেএসএস'র মাঝে যে কোন সময়ে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। জানা যায়, ১৯৭৩ সালে সংগঠনটির আবির্ভাব ঘটে। সংগঠনটির সশস্ত্র বাহিনীর নাম ছিল শান্তিবাহিনী। দীর্ঘ দু'দশক পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে দেশি-বিদেশি মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশল গ্রহণ করে। ১৯৮৩ সালে সন্তু লারমার বড় ভাই এমএন লারমা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে প্রীতি কুমার চাকমা গ্রুপের হাতে নিহত হন। এরপর জেএসএস'র হাল ধরেন সন্তু লারমা। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির মধ্যদিয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বে ১৯৪৭ জন জেএসএস ও শান্তিবাহিনীর সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। ১৯৯৮ সালে ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম মাঠে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে একটি অস্ত্র তুলে দিয়ে শান্তিবাহিনীর অপরাপর সদস্যরা পর্যায়ক্রমে অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। সরকার তাদের নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে। এর কিছুদিন যেতে না যেতে সন্তু লারমার সাথে সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ওদিকে চুক্তির বিরুদ্ধে ইউপিডিএফ অবস্থান নিয়ে সন্তু লারমার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। জেএসএস-ইউপিডিএফ'র মাঝে আধিপত্য বিস্তারের যুদ্ধ শুরু হয়। যা বর্তমান সময়েও অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে সন্তু লারমার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী কেলেংকারী, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতায় থেকে কোটি কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ, জুম্ম জাতির সাথে প্রতারণা, আদর্শচ্যুত হয়েছেন অভিযোগ তুলে সংস্কারপন্থী হিসেবে খ্যাত জেএসএস'র একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তাতিন্দ্র লাল চাকমা ওরফে মেজর পেলের নেতৃত্বে সন্তু লারমার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এরপর থেকে শুরু হয়ে কোন্দল, গ্রুপিং। অবশেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে বিবদমান গ্রুপের নেতা-কর্মীরা। জেএসএস'র বর্তমান সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার নেতৃত্বে বর্তমান কমিটিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে গঠন করা হয়েছে ৫ সদস্যের পাল্টা কমিটি। এই কমিটির সকল সদস্যই সন্তু লারমার এক সময়ের বিশ্বস্ত ও ডান হাত হিসেবে পরিচিত। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বড়াদম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিদ্রোহী গ্রুপের আহূত এক কর্মী সম্মেলনে এ বিদ্রোহের সূচনা হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জনসংহতি সমিতির সংস্কারপন্থীদের প্রায় দেড় হাজার নেতাকর্মী এই সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সন্তু লারমা নিজের মতো করে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সংগঠন পরিচালনা করছেন। সংগঠনের নেতা-কর্মী ও জুম্ম জনগণের মাথা বিক্রি করে সরকারি বরাদ্দ এনে তিনি নিজে তা আত্মসাৎ করেছেন। নারী কেলেঙ্কারীসহ তার বিরুদ্ধে বহু অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। কর্মী সম্মেলনে বিদ্রোহী নেতারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা থাকলেও সন্তু লারমার অযোগ্যতা এবং দূরদর্শিতার অভাবে চুক্তি বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং সন্তু লারমার চারিত্রিক অধঃপতন ও নীতি-নৈতিকতা বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য জনসংহতি সমিতির আজ এ দুরাবস্থা। বক্তারা সংগঠনের আদর্শবান ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে যারা তার এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করেছে তাদের হত্যা, নির্যাতন, বহিষ্কারসহ বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
মূল লিংকঃhttp://www.dailysangram.com/post/29026-পার্বত্য-জনসংহতি-সমিতির-কোন্দল-প্রকাশ্য-রূপ-ধারণ
https://www.google.com/url…

No comments: