ছবিঃ পিসিপি'র মৌন মিছিল ২১শে মে ১৯৮৯ইং
|
লংগদু গণহত্যার ৩১বছর আজঃ
৪ঠা মে ১৯৮৯,লংগদু গণহত্যাঃ
৪ঠা মে ১৯৮৯,লংগদু গণহত্যাঃ
১৯৮৯ সালের ৪ঠা মে সংগঠিত হয় লংগদু গণহত্যা। এদিন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলায় সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় সেটলার বাঙালিরা পাহাড়ী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, বৌদ্ধ মন্দির ও বুদ্ধ মুর্তি ধ্বংস করে দেয়।সেটলারদের এ হামলায় বহু পাহাড়ী নিহত ও আহত হয়।
এ হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানিয়ে ৮৯' সালের ৯ মে চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, প্রাক্তন সংসদ সদস্য চাইথোয়াই রোয়াজা, প্রাক্তন সংসদ সদস্যা সুদীপ্তা দেওয়ান, প্রেসিডেন্টের সাবেক উপদেষ্টা সুবিমল দেওয়ান, তৎকালীন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান এবং রাঙামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মায়াধন চাকমাসহ ২২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে তারা এ হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “উপজেলা সদরে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্বেও পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য, লংগদু ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও ৩নং লংগদু মৌজার হেডম্যান অনিল বিহারী চাকমা তার বাসভবনে হামলার শিকার হন। ভাগ্যক্রমে তিনি প্রাণে বেঁচেগেলেও তার স্ত্রী ও প্রতিবেশীদের অনেকে(যারা হেডম্যানের বাসভবনে আশ্রয় নিয়েছিল) এই নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন। হত্যাকারীরা দা, বল্লম ইত্যাদি সহ আগ্নেয়াস্ত্রের দ্বারা, গুলি করে এইসব নিরীহ নারী, পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে হত্যা করেও ক্ষান্ত হয়নি। মৃতদেহগুলি বাড়িতে ফেলে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে।অনিল বিহারী চাকমা তার স্ত্রীর মৃতদেহ বাড়ি থেকে বের করে বাড়ীর পাশ্ববর্তী জঙ্গলে সারারাত পাহারা দিয়ে রাখেন। ভোরের দিকে থানায় খবর দিতে এসে পরে উদ্ধার করতে গেলে পরবর্তীতে মৃতদেহের কোন হদিস পাননি। পরিস্থিতির এমন ভয়াবহতায় মৃতদেহগুলি ধর্মীয় বিধিতে পর্যন্ত সৎকার করা সম্ভব হয়নি।”
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯৮৯ সালের ৪ঠা মে বিকাল ৪-৫ টা নাগাদ লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ সরকার তার অফিসের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাবার আড়াই ঘন্টা পর লংগদুতে পাহাড়ি গ্রামবাসীদের উপর প্রতিশোধ মূলক হামলা শুরু হয়। এই প্রতিশোধমূলক হামলায় কম করে ৩৬ জন পাহাড়ী নারী-পুরুষ ও শিশু মারা যায়। তবে এর প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে রিপোর্টে বলা হয়। আর আব্দুর রশিদ সরকারের মৃত্যুর জন্য শান্তিবাহিনীকে দায়ী করা হলেও এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর কোন কারণ খুঁজে পায়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ্যামনেস্টির ওই রিপোর্টে বলা হয়," কমপক্ষে ৬টি গ্রা্মে আক্রমণ করা হয়, পাহাড়ীদের শত শত ঘরবাড়ি, অসংখ্য বৌদ্ধ মন্দির এবং খ্রিস্টানদের দু’টি গীর্জা জ্বালিয়ে দেয়া হয়। যারা বেঁচে যায় তারা আশ্রয়ের জন্য পাহাড়ে ও জঙ্গলে পালিয়ে যায় এবং তাদের একটা বিরাট অংশ সীমান্ত পার হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়।”
![]() |
| ছবিঃলংগদু গণহত্যার লাশের ছবি |
যে সময় এ গণহত্যা সংঘটিত হয় তখন ছিল স্বৈরাচারী এরশাদের সামরিক শাসনামল।
ফলে এ বর্বর হত্যাযজ্ঞের সংবাদ সে সময়কার বাংলাদেশের কোন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি।
তবে পরবর্তীতে যখন ঘটনাটি প্রচার পায় তখন থেকেই প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়।
বর্বরতম এই হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে জন্ম লাভ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ। লোমহর্ষক এ গণহত্যার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর জন্য ঢাকার রাজপথে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ১৯৮৯ সালের ২১শে মে মৌন মিছিল সহকারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ এ বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদানসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ৩০শে মে’ ৮৯ বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ঢাকায় মৌন বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
আজ ৪ঠা মে ২০২০,হত্যাকান্ডের ৩১ বছর অতিক্রান্ত হলেও কোন সরকারই এ হত্যাযজ্ঞে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের উপর ডজনের অধিক গণহত্যা চালানো হয়েছিল।এ হত্যাকান্ডের মত কোন গণহত্যার বিচার আদিবাসী জনগণ পায়নি।তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবতা বিরোধী এসব হত্যাযজ্ঞের কি কোনদিন বিচার হবে না?
২রা জুন ২০১৭,লংগদু হামলাঃ
![]() |
| ছবিঃপ্রাণের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন আদিবাসীরা |
১লা জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ৭নং ইউনিয়ন শাখার যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম নয়ন (৩৫)-এর লাশ উদ্ধার করা হয়৷
লাশটি উদ্ধার করা হয় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার চার মাইল এলাকা থেকে৷ স্থানীয় পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে যায়৷তিনি একজন ভাড়াটে মোটর সাইকেল চালক ছিলেন বলে জানা যায়।
এরপর থেকেই লংগদু উপজেলা সদরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়৷২জুন শুক্রবার সকাল ৮ টার দিকে লাশ লংগদুতে নিয়ে আসা হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে৷৷হত্যাকান্ডের দায় ছাপিয়ে দেয়া হয় পাহাড়ীদের উপর।হামলা চালানো হয় পাহাড়ী জনপদে।
এ হামলায় লংগদু সদরের তিনটিলা এলাকায় জুম্মদের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট; মানিকজুরছড়ায় কমপক্ষে ৪০টির অধিক ঘরবাড়ি, এবং বাত্যা পাড়ায় প্রায় ৪০টি ঘরাবাড়িসহ জুম্মদের প্রায় ৩০০টির অধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের ছত্রছায়ায় লংগদু উপজেলায় বাত্যা পাড়া থেকে সেটেলার বাঙালিদের এক জঙ্গী সাম্প্রদায়িক মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আনুমানিক ১০টার দিকে লংগদু সদরের তিনটিলা এলাকায় পৌঁছলে সেটেলার বাঙালিরা কোন উস্কানী ছাড়াই জনসংহতি সমিতির অফিসসহ জুম্মদের ঘরবাড়ি ও দোকানগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ঘরবাড়ি লুটপাটসহ জুম্মদের উপর হামলা করতে শুরু করে। এতে তিনটিলা এলাকায় জুম্মদের ২০০-এর অধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয় বলে জানা যায়। এরপর সেনা ও পুলিশ প্রহরায় সেটেলার বাঙালিরা পার্শ্ববর্তী মানিকজুরছড়ায় হামলা করতে যায়। এতে জুম্মদের বসতিতে অগ্নিসংযোগ করলে কমপক্ষে ৪০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ছাই হয়ে যায়।
বেলা ১২টার দিকে স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সেনাবাহিনীর প্রহরায় সেটেলার বাঙালিরা দক্ষিণ মানিকজুরছড়া, বাত্যা পাড়া ইত্যাদি জুম্ম গ্রামে অগ্নিসংযোগ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বাত্যা পাড়ায় আরো ৩০টি ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে জানা যায়।
লাশ নিয়ে সেটেলারদের জঙ্গী মিছিল বের করার খবর ১জুন বৃহস্পতিবার রাতে জানাজানি হলে স্থানীয় জুম্ম জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দ লংগদু সেনা জোন ও লংগদু থানা কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কার কথা জানা্নো হয়েছিল। ২রা জুন সকালে সেনা জোনের পক্ষ থেকে টুআইসি মেজর রফিক জুম্মদেরকে এই মর্মে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ‘মিছিল করা সেটেলারদের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলটি করবে। কোন অঘটন ঘটতে দেয়া হবে না।’ তাই নিরাপত্তা নিয়ে জুম্মদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলে জুম্ম জনপ্রতিনিধি ও জুম্মদেরকে তিনি আশ্বস্থ করেন। কিন্তু অত্যন্ত দু:খজনক যে, লংগদু সেনা জোনের জোন কম্যান্ডার লে: কর্ণেল আবদুল আলিম চৌধুরী পিএসসি, টুআইসি মেজর রফিক ও লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সেনা-পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতিতে সেটলার বাঙালিরা জুম্মদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে এবং লুটপাটসহ সংঘবদ্ধ সাম্প্রদায়িক হামলা চালায়।
উক্ত জঙ্গী মিছিল ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি, জামায়াতে ইসলাম প্রভৃতি জাতীয় রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে এবং সাম্প্রদায়িক উগ্র সংগঠন সমঅধিকার আন্দোলন ও অন্যান্য সেটেলার বাঙালিদের সংগঠনের লোকজন অংশগ্রহণ করে বলে জানা যায়।
সেনা জোন ও থানার পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস প্রদান করা সত্ত্বেও এবং তাদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতিতে জুম্মদের ঘরবাড়িতে সেটেলার বাঙালিদের অবাধে এই অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হামলার ঘটনা থেকে এটা নি:সন্দেহে বলা যায় যে, সেনা-পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতৃত্বের যোগসাজশে জুম্মদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও সাম্প্রদায়িক হামলার পূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে সেটেলার বাঙালিরা লাশ নিয়ে মিছিল করার আয়োজন করেছিল। যদিও উক্ত ঘটনায় পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি সরকারের পক্ষ থেকে তুলে দেয়া হয়েছিল।
আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের ছত্রছায়ায় লংগদু উপজেলায় বাত্যা পাড়া থেকে সেটেলার বাঙালিদের এক জঙ্গী সাম্প্রদায়িক মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আনুমানিক ১০টার দিকে লংগদু সদরের তিনটিলা এলাকায় পৌঁছলে সেটেলার বাঙালিরা কোন উস্কানী ছাড়াই জনসংহতি সমিতির অফিসসহ জুম্মদের ঘরবাড়ি ও দোকানগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ঘরবাড়ি লুটপাটসহ জুম্মদের উপর হামলা করতে শুরু করে। এতে তিনটিলা এলাকায় জুম্মদের ২০০-এর অধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয় বলে জানা যায়। এরপর সেনা ও পুলিশ প্রহরায় সেটেলার বাঙালিরা পার্শ্ববর্তী মানিকজুরছড়ায় হামলা করতে যায়। এতে জুম্মদের বসতিতে অগ্নিসংযোগ করলে কমপক্ষে ৪০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ছাই হয়ে যায়।
বেলা ১২টার দিকে স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সেনাবাহিনীর প্রহরায় সেটেলার বাঙালিরা দক্ষিণ মানিকজুরছড়া, বাত্যা পাড়া ইত্যাদি জুম্ম গ্রামে অগ্নিসংযোগ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বাত্যা পাড়ায় আরো ৩০টি ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে জানা যায়।
লাশ নিয়ে সেটেলারদের জঙ্গী মিছিল বের করার খবর ১জুন বৃহস্পতিবার রাতে জানাজানি হলে স্থানীয় জুম্ম জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দ লংগদু সেনা জোন ও লংগদু থানা কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কার কথা জানা্নো হয়েছিল। ২রা জুন সকালে সেনা জোনের পক্ষ থেকে টুআইসি মেজর রফিক জুম্মদেরকে এই মর্মে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ‘মিছিল করা সেটেলারদের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলটি করবে। কোন অঘটন ঘটতে দেয়া হবে না।’ তাই নিরাপত্তা নিয়ে জুম্মদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলে জুম্ম জনপ্রতিনিধি ও জুম্মদেরকে তিনি আশ্বস্থ করেন। কিন্তু অত্যন্ত দু:খজনক যে, লংগদু সেনা জোনের জোন কম্যান্ডার লে: কর্ণেল আবদুল আলিম চৌধুরী পিএসসি, টুআইসি মেজর রফিক ও লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সেনা-পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতিতে সেটলার বাঙালিরা জুম্মদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে এবং লুটপাটসহ সংঘবদ্ধ সাম্প্রদায়িক হামলা চালায়।
উক্ত জঙ্গী মিছিল ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি, জামায়াতে ইসলাম প্রভৃতি জাতীয় রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে এবং সাম্প্রদায়িক উগ্র সংগঠন সমঅধিকার আন্দোলন ও অন্যান্য সেটেলার বাঙালিদের সংগঠনের লোকজন অংশগ্রহণ করে বলে জানা যায়।
সেনা জোন ও থানার পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস প্রদান করা সত্ত্বেও এবং তাদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতিতে জুম্মদের ঘরবাড়িতে সেটেলার বাঙালিদের অবাধে এই অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হামলার ঘটনা থেকে এটা নি:সন্দেহে বলা যায় যে, সেনা-পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতৃত্বের যোগসাজশে জুম্মদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও সাম্প্রদায়িক হামলার পূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে সেটেলার বাঙালিরা লাশ নিয়ে মিছিল করার আয়োজন করেছিল। যদিও উক্ত ঘটনায় পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি সরকারের পক্ষ থেকে তুলে দেয়া হয়েছিল।
উক্ত হামলার ঘটনায় গুণবালা চাকমা নামের এক মহিলা নিহত হন বলে যায়।
১৯৮৯ এর গণহত্যার পর লংগদুতে এটিই ছিল আদিবাসীদের উপর সবচেয়ে বড় হামলা।
এদেশের আদিবাসীরা স্বাধীনতার পর হতে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার পাবার জন্য আন্দোলন,দাবী করে গেলেও বাংলাদেশ সরকার আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার না দিয়ে তাদেরকে জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে।বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলকে পার্বত্য চটতগ্রামকে নিয়ে এদেশের শাসকশ্রেণী বেশী উঠেপড়ে লেগেছে ।
একসময়কার আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলকে জিয়াউর রহমানের আমলে ৮০'র দশকে সমতল থেকে প্রায় ৫ লক্ষ সেটলার বাঙালীকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে এখানকার ভূমিপুত্রদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করে।যার কারণে পাহাড়ে আজ আদিবাসী-বাঙালী অনুপাত ৪৮%-৫২%।পার্বত্য চট্টগ্রামকে ইসলামীকরণ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার অনবরত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
যার প্রমাণ হিসেবে বলা যায় ১৯৭২ সালে সংবিধান রচনাকালে সাংসদ আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়ার প্রস্তাবকৃত "বাংলাদেশের সকল নাগরিকগণ বাঙালী পরিচিত হইবে" প্রস্তাবটি শুধুমাত্র সংখ্যা গরিষ্ঠতার কারণে গ্রহণ করা হয়েছিল এদেশের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীদের অস্বীকার করে।
২০১১ সালের ৩০শে জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের ভিন্ন জাতিসত্বার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে শুধুমাত্র এক জাতির(বাঙালী) রাষ্ট্র হিসেবে সংবিধান ঘোষণা করে।
এই যে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আদিবাসীদের উপর যে হামলা,লুটপাত,হত্যাকান্ড,ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ সবগুলোই সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কিছু ঘটনা।সংবিধানই যখন আদিবাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে তখন তাঁদের উপর এসব ঘটনা ঘটা মানেই এদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রের দোষ বলে আদিবাসীরা মনে করবে।
২জুন ২০১৭,লংগদু হামলায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতার কিছু ছবি।
১৯৮৯ এর গণহত্যার পর লংগদুতে এটিই ছিল আদিবাসীদের উপর সবচেয়ে বড় হামলা।
![]() |
| ছবিঃঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া এক জুম্ম নারীর আর্তনাদ |
এদেশের আদিবাসীরা স্বাধীনতার পর হতে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার পাবার জন্য আন্দোলন,দাবী করে গেলেও বাংলাদেশ সরকার আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার না দিয়ে তাদেরকে জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে।বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলকে পার্বত্য চটতগ্রামকে নিয়ে এদেশের শাসকশ্রেণী বেশী উঠেপড়ে লেগেছে ।
একসময়কার আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলকে জিয়াউর রহমানের আমলে ৮০'র দশকে সমতল থেকে প্রায় ৫ লক্ষ সেটলার বাঙালীকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে এখানকার ভূমিপুত্রদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করে।যার কারণে পাহাড়ে আজ আদিবাসী-বাঙালী অনুপাত ৪৮%-৫২%।পার্বত্য চট্টগ্রামকে ইসলামীকরণ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার অনবরত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
যার প্রমাণ হিসেবে বলা যায় ১৯৭২ সালে সংবিধান রচনাকালে সাংসদ আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়ার প্রস্তাবকৃত "বাংলাদেশের সকল নাগরিকগণ বাঙালী পরিচিত হইবে" প্রস্তাবটি শুধুমাত্র সংখ্যা গরিষ্ঠতার কারণে গ্রহণ করা হয়েছিল এদেশের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীদের অস্বীকার করে।
২০১১ সালের ৩০শে জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের ভিন্ন জাতিসত্বার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে শুধুমাত্র এক জাতির(বাঙালী) রাষ্ট্র হিসেবে সংবিধান ঘোষণা করে।
এই যে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আদিবাসীদের উপর যে হামলা,লুটপাত,হত্যাকান্ড,ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ সবগুলোই সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কিছু ঘটনা।সংবিধানই যখন আদিবাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে তখন তাঁদের উপর এসব ঘটনা ঘটা মানেই এদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রের দোষ বলে আদিবাসীরা মনে করবে।
২জুন ২০১৭,লংগদু হামলায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতার কিছু ছবি।



No comments:
Post a Comment