![]() |
| শ্রী সুধাসিন্ধু খীসা |
ছোটবেলা থেকে তিনি ছিলেন খুব জেদি।যা ভাবতেন তাই করতে তিনি কখনো পিছপা হতেননা।
যার কারণে তাঁর আরেক নাম ছিলো জিত্তোগুলো(চাকমা ভাষা) অর্থাৎ হার না মানা।
ষাটের দশকে সমাজবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে ভর্তি হন বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ও প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।বর্তমান সময়ে এসেও যেখানে মাত্র গুটিকয়েক জুম্ম ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করতে পারছেন,তৎকালীন সময়ে কতটা কঠিন ব্যাপার ছিল তা সহজে অনুমান করা যায়।একদিকে উনার পরিবার ছিল সম্ভ্রান্ত অন্যদিকে তিনি ছিলেন তুখোর মেধাবী।
স্বপ্ন ছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে বাম্পন্থীধারার বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।যার ধরুন জুম্মদের নিয়ে চিন্তাভাবনা তাকে প্রভাবিত করে।
উপরন্তু ষাটের দশকে কাপ্তাই বাঁধের ফলে হাজার হাজার পাহাড়ী মানুষের ভিটামাটি হারানো ও তাঁদের দেশান্তরী তাকে আজকের এই পর্যায়ে উঠে আসতে প্রেরণা যুগিয়েছিল।
১৯৭১ সালে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ে উঠল,সংবিধান রচনাকালে যখন এদেশের ভিন্ন জাতীস্বত্তার মানুষদের অস্বীকার করা হল,পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি কেড়ে নেয়া হল,
তখন এমএন লারমার নেতৃত্বে গঠিত হল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।
আর যখনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সফলতার মুখ না দেখার আশা দেখা দিল তখনই জন্ম হল জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সংগঠন শান্তিবাহিনী।সেই জনসংহতি সমিতি ও শান্তিবাহিনীর প্রতিষ্ঠাকালীন একজন সদস্য হলেন সুধাসিন্ধু খীসা।
এমএন লারমা জুম্ম সমাজকে সামাজিক,অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য একসময় শিক্ষিত জুম্ম সমাজের প্রতি বলেছিলেন গ্রামে চলো।সেই স্লোগানে পাহাড়ের শিক্ষিত জুম্ম সমাজ ছুটে গিয়েছিলেন জুম পাহাড়ে।
যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষকতার পেশায়,মানুষ গড়ার কারিগড় হিসেবে।সেই শিক্ষিত তরুণ সমাজকে নিয়েই একসময় গড়ে উঠেছিল জনসংহতি সমিতি বা শান্তিবাহিনীর বিপ্লব।জনসংহতি সমিতির বেশীরভাগ কর্মীই ছিলেন শিক্ষক,যার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই আন্দোলনকে বলা হয়েছিল "টিচার্স রিভুলেশন"।
এবং একসময় টিচার্স রিভুলেশন নামেই শান্তিবাহিনীর আন্দোলন জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল।
এই টিচার্স রিভুলেশন নামে খ্যাত বিপ্লবের অন্যতম সারথী ছিলেন ছিলেন সুধাসিন্ধু খীসা।
তিনি ছিলেন জুম্ম জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও জুম্ম সমাজের মহানায়ক এমএন লারমার একজন বিশস্ত কাছের মানুষ।
![]() |
| জনসংহতি সমিতির দলীয় প্রতীক |
![]() |
| জনসংহতি সমিতির দলীয় পতাকা |
১৯৮২ সালের(২৪-২৭) সেপ্টেম্বর জেএসএসের ২য় কংগ্রেসে ইতিহাসে প্রথম ভোটের মাধ্যমে জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় এবং সশস্ত্র পন্থায় ১ম ক্ষমতা দখলের ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা চলে।
কংগ্রেসের আগেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে মতানৈক্য-আভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ লক্ষ্য করা যায়,যার কারণে কংগ্রেসের পর গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়।
৪৯ জন প্রতিনিধির গোপন ব্যালেটে ভোট প্রধানে সুধাসিন্ধু খীসা ৪৮টি হ্যাঁ ভোট পান,একটিও না ভোট তিনি পাননি।
কংগ্রেসে প্রীতিকুমার বিরোধীতা না করলেও কংগ্রেসের পরপরই গোপনে নতুন একটি ৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেন।ভবতোষ দেওয়ানকে সভাপতি,যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে সহসভাপতি ও প্রীতিকুমার চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি করা হয়।
২৯ জন কেন্দ্রীয় সদস্যের মধ্যে ১৫ জন কেন্দ্রের পক্ষে, ১০ জন বিদ্রোহী পক্ষে,২জন জেল বন্দী, একজন আলঙ্কারিক ও ১জন নিরপেক্ষ ছিলেন।
সভাপতি এমএন লারমা,ফিল্ড কমান্ডার সন্তু লারমা ছিলেন কেন্দ্রের পক্ষে,সাধারণ সম্পাদক ভবতোষ দেওয়ান ছিলেন বিদ্রোহী পক্ষে।
কংগ্রেস পূর্ববর্তী সময়ে কংগ্রেসস্থল পানছড়ির এহতমরা থুম এলাকায় পৌঁছার ৩-৪ দিন পূর্বে প্রীতিকুমার চাকমা সুধাসিন্ধু খীসাকে ভিন্নমতাবলম্বী ঘরনায় টানতে বাধ্য করতে চান।এতে সুধাসিন্ধু খীসা বলেন,"তুমি কি আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছো? আমাকে তুমি 'থুম' করে মারলে তোমাকেও 'ফুং' করে মারার লোকের অভাব হবেনা।
গৃহযুদ্ধের সময় সুধাসিন্ধু খীসার এই বাক্যটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
৮৩'এর গৃহযুদ্ধে সুধাসিন্ধু খীসা ছিলেন এমএনলারমা অর্থাৎ কেন্দ্রের পক্ষে।
জেলবন্ধি অবস্থায় সন্তু লারমা সরকারের কাছে দেয়া ৪৩ পৃষ্ঠার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানে সুপারিশনামাকে প্রীতিকুমার চাকমা আপোষনামা হিসেবে চিহ্নিত করেন।এবং তিনি এই আপোষনামায় পার্টির সমগ্র গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন,যার কারণে পার্টিতে সংকট ও পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়।১৪ই জুন ১৯৮৩ সালে সন্তু লারমা তাঁর একঘেয়েমিতার কারণে যদি পানছড়ির গোলকপতিমাছড়ায় বিদ্রোহী ঘাটিঁতে প্রথম সশস্ত্র আক্রমণ না চালাতো তাহলে হয়তো সমাধানের পথ সৃষ্টি হতো।
১৪ই জুন ১৯৮৩ থেকে শুরু হয়ে গৃহযুদ্ধ ৩০ এপ্রিল ১৯৮৫ তে এসে শেষ হয়।যেখানে জুম্ম জাতির স্থপতি মহান নেতা এমএনলারমাসহ বহু প্রতিভাবান মানুষকে জুম্ম সমাজ হারিয়েছে।
কংগ্রেসের আগেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে মতানৈক্য-আভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ লক্ষ্য করা যায়,যার কারণে কংগ্রেসের পর গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়।
৪৯ জন প্রতিনিধির গোপন ব্যালেটে ভোট প্রধানে সুধাসিন্ধু খীসা ৪৮টি হ্যাঁ ভোট পান,একটিও না ভোট তিনি পাননি।
কংগ্রেসে প্রীতিকুমার বিরোধীতা না করলেও কংগ্রেসের পরপরই গোপনে নতুন একটি ৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেন।ভবতোষ দেওয়ানকে সভাপতি,যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে সহসভাপতি ও প্রীতিকুমার চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি করা হয়।
২৯ জন কেন্দ্রীয় সদস্যের মধ্যে ১৫ জন কেন্দ্রের পক্ষে, ১০ জন বিদ্রোহী পক্ষে,২জন জেল বন্দী, একজন আলঙ্কারিক ও ১জন নিরপেক্ষ ছিলেন।
সভাপতি এমএন লারমা,ফিল্ড কমান্ডার সন্তু লারমা ছিলেন কেন্দ্রের পক্ষে,সাধারণ সম্পাদক ভবতোষ দেওয়ান ছিলেন বিদ্রোহী পক্ষে।
কংগ্রেস পূর্ববর্তী সময়ে কংগ্রেসস্থল পানছড়ির এহতমরা থুম এলাকায় পৌঁছার ৩-৪ দিন পূর্বে প্রীতিকুমার চাকমা সুধাসিন্ধু খীসাকে ভিন্নমতাবলম্বী ঘরনায় টানতে বাধ্য করতে চান।এতে সুধাসিন্ধু খীসা বলেন,"তুমি কি আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছো? আমাকে তুমি 'থুম' করে মারলে তোমাকেও 'ফুং' করে মারার লোকের অভাব হবেনা।
গৃহযুদ্ধের সময় সুধাসিন্ধু খীসার এই বাক্যটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
৮৩'এর গৃহযুদ্ধে সুধাসিন্ধু খীসা ছিলেন এমএনলারমা অর্থাৎ কেন্দ্রের পক্ষে।
জেলবন্ধি অবস্থায় সন্তু লারমা সরকারের কাছে দেয়া ৪৩ পৃষ্ঠার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানে সুপারিশনামাকে প্রীতিকুমার চাকমা আপোষনামা হিসেবে চিহ্নিত করেন।এবং তিনি এই আপোষনামায় পার্টির সমগ্র গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন,যার কারণে পার্টিতে সংকট ও পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়।১৪ই জুন ১৯৮৩ সালে সন্তু লারমা তাঁর একঘেয়েমিতার কারণে যদি পানছড়ির গোলকপতিমাছড়ায় বিদ্রোহী ঘাটিঁতে প্রথম সশস্ত্র আক্রমণ না চালাতো তাহলে হয়তো সমাধানের পথ সৃষ্টি হতো।
১৪ই জুন ১৯৮৩ থেকে শুরু হয়ে গৃহযুদ্ধ ৩০ এপ্রিল ১৯৮৫ তে এসে শেষ হয়।যেখানে জুম্ম জাতির স্থপতি মহান নেতা এমএনলারমাসহ বহু প্রতিভাবান মানুষকে জুম্ম সমাজ হারিয়েছে।
গৃহযুদ্ধের পর আবারো জনসংহতি সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা করতে থাকে।জেলবন্দী অবস্থায় সন্তু লারমার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানে দেয়া ৪৩ পৃষ্ঠার সুপারিশনামা অনুযায়ী স্বৈরাচারী এরশাদের
শাসন আমলে প্রথম জনসংহতির সাথে বাংলাদেশ সরকারের সমস্যা সমাধানকল্পে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুধাসিন্ধু খীসা।বৈঠকের সকল চেয়ারগুলোতে লেখা ছিল জনাব অমুক জনাব সমুক।এই জনাব লেখা দেখে সুধাসিন্ধু খীসা মহোদয় চেয়ারগুলোতে বসতে অস্বীকৃতি জানান
এবং প্রতিবাদ জানান।তিনি মনে করেছিলেন এই জনাব লেখার মধ্য দিয়ে জুম্মদেরকে বাঙালীয়ানা আগ্রাসন চাপিয়ে দেয়া হচ্ছিল।যার কারণে একপর্যায়ে উক্ত বৈঠকে জনাব এর পরিবর্তে শ্রী লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন শাসকেরা।
অথচ এখনো আমাদের কিছু কিছু জুম্ম নেতাদের জনাব ধারণ করতে দেখা যায়,যেখানে সুধাসিন্ধু খীসার এই প্রতিবাদ ম্লান হয়ে যায়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সকারের সাথে জনসংহতি সমিতির ২৬ বারের বৈঠকের পর ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।যা গোটা বিশ্বে পার্বত্য শান্তি চুক্তি নামে সমধিক খ্যাত।
২৬ বারের এই প্রতিটি বৈঠকে জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে উপস্থিত ছিলেন সুধাসিন্ধু খীসা।
পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের পর সুধাসিন্ধু খীসা প্রথম স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং থাকতে দেয়া হয় এলজিইডির ডরমেটরিতে।কিন্তু তিনি সদ্য গেরিলা জীবন থেকে ফিরে আসা একজন রাষ্ট্রীয় অথিতিকে এমন অবহেলা মেনে নেননি,করেছিলেন প্রতিবাদ।যার কারণে ঐদিন তাকে রেস্টহাউজে রাখতে বাধ্য হয়েছিল।
শাসন আমলে প্রথম জনসংহতির সাথে বাংলাদেশ সরকারের সমস্যা সমাধানকল্পে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুধাসিন্ধু খীসা।বৈঠকের সকল চেয়ারগুলোতে লেখা ছিল জনাব অমুক জনাব সমুক।এই জনাব লেখা দেখে সুধাসিন্ধু খীসা মহোদয় চেয়ারগুলোতে বসতে অস্বীকৃতি জানান
এবং প্রতিবাদ জানান।তিনি মনে করেছিলেন এই জনাব লেখার মধ্য দিয়ে জুম্মদেরকে বাঙালীয়ানা আগ্রাসন চাপিয়ে দেয়া হচ্ছিল।যার কারণে একপর্যায়ে উক্ত বৈঠকে জনাব এর পরিবর্তে শ্রী লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন শাসকেরা।
অথচ এখনো আমাদের কিছু কিছু জুম্ম নেতাদের জনাব ধারণ করতে দেখা যায়,যেখানে সুধাসিন্ধু খীসার এই প্রতিবাদ ম্লান হয়ে যায়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সকারের সাথে জনসংহতি সমিতির ২৬ বারের বৈঠকের পর ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।যা গোটা বিশ্বে পার্বত্য শান্তি চুক্তি নামে সমধিক খ্যাত।
২৬ বারের এই প্রতিটি বৈঠকে জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে উপস্থিত ছিলেন সুধাসিন্ধু খীসা।
পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের পর সুধাসিন্ধু খীসা প্রথম স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং থাকতে দেয়া হয় এলজিইডির ডরমেটরিতে।কিন্তু তিনি সদ্য গেরিলা জীবন থেকে ফিরে আসা একজন রাষ্ট্রীয় অথিতিকে এমন অবহেলা মেনে নেননি,করেছিলেন প্রতিবাদ।যার কারণে ঐদিন তাকে রেস্টহাউজে রাখতে বাধ্য হয়েছিল।
চুক্তির পূর্বে তৎকালীন ছাত্র পরিষদের কিছু নেতাকর্মী সন্তু লারমার সাথে চুক্তির বিষয়ে আলোচনার কথা বলা হলেও সন্তু লারমা তাদেরকে গুরুত্ব না দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে এগোয়।
যার কারণে চুক্তি স্বাক্ষরকালীন সময়ে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ,পাহাড়ী গণ পরিষদ,হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ব্যানারে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে চুক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সেসব নেতাকর্মীদের সন্তু লারমা কাছে টানার বদলে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে যার ফলে ইউপিডিএফ নামক দলের সৃষ্টি।
যার কারণে চুক্তি স্বাক্ষরকালীন সময়ে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ,পাহাড়ী গণ পরিষদ,হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ব্যানারে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে চুক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সেসব নেতাকর্মীদের সন্তু লারমা কাছে টানার বদলে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে যার ফলে ইউপিডিএফ নামক দলের সৃষ্টি।
১৯৯৭ সালে চুক্তি সম্পাদনের পর ১৯৯৮ সালে ১২ নং আইন আনুসারে আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়।এবং ১৯৯৯ সালের ২৭ মে পার্বত্য চুক্তি অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে আঞ্চলিক পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়।
উক্ত আঞ্চলিক পরিষদে আমৃত্যু পর্যন্ত একজন সদস্য হিসেবে ছিলেন সুধাসিন্ধু খীসা।
এক এগারোর সময়ে দেশে জরুরী অবস্থা চলাকালীন সময়ে জনসংহতি সমিতিতে আভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দেয়।
পরবর্তীতে উক্ত আভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে পার্টির ৮ম জাতীয় সম্মেলনের পর পরই বেশ কিছু কেন্দ্রীয় নেতাকে অপদ্ধতিগতভাবে সরিয়ে দিয়েছিলেন সন্তু লারমা। এরপর সরিয়ে দেয়া উক্ত নেতাদের নিয়ে সন্তু লারমা বিভিন্ন আপত্তিকর বিশেষণে বিভূষিত করে অপ্প্রচার চালিয়েছিলেন।
ফলে জনসংহতি সমিতির তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্তি চলে আসে এবং পার্টির খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি কেন্দ্রীক বিভক্ত হয়ে পড়ে।
এরই প্রেক্ষাপটে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ বৈঠক ছাড়া একক সিদ্ধান্তে নবম জাতীয় সম্মেলনের কার্যাবলী চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত করেন এবং ২৯-৩১ মার্চ ২০১০ একতরফাভাবে,অগঠনতান্ত্রিকভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত করেন।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রুপায়ন দেওয়ান,সহসভাপতি সুধাসিন্ধু খীসা,সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রশেখর চাকমা,সহ সাধারণ সম্পাদক তাতিন্দ্র লাল চাকমাকে বাদ দেন।
যেখানে সন্তু লারমা তাঁর একগুঁয়েমি,সেচ্ছাচারী,স্বৈরাচারী,বল প্রয়োগের রাজনীতি,স্বজনপ্রীতি ও অধঃপতিত নেতৃত্বকে প্রকাশ করেছিলেন।
পার্টির এই চরম দুঃসময়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বকে প্রত্যাখান করে পার্টির সচেতন কর্মীবৃন্দ ২০১০ সালের ১০ এপ্রিল
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার বড়াদাম হাইস্কুল মাঠে এক বিশেষ কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে এবং দীঘিনালা ঘোষণা নামে একটি ঘোষণাপত্র দেয়া হয়।
যে ঘোষণা পত্রে সন্তু লারমার কর্তৃক অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনকে প্রত্যাখান করে ৭ সদস্যক নতুন একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
উক্ত ৭ সদস্যের আহবায়ক কমিটিতে যারা ছিলেন তারা হচ্ছেন শ্রী সুধাসিন্ধু খীসা ও শ্রী রুপায়ন দেওয়ান যুগ্ম আহবায়ক,শ্রী তাতিন্দ্র লাল চাকমা সদস্য সচিব,প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি ত্রিপুরা,এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা,শ্রী উদয় কিরণা ত্রিপুরা ও শ্রীমতি কাকলি খীসা।
এর পরবর্তী জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুধাসিন্ধু খীসা জনসংহতি সমিতির সভাপতি পদ লাভ করেন।
তিনি বিভক্ত জনসংহতি সমিতিতে ২ পিরিয়ড সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন।
গত ১৫-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০,১২ তম জাতীয় সম্মেলনে শ্রী সুধাসিন্ধু খীসা বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেন।
বিগত নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ নং রাঙামাটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছিলেন।
উক্ত আঞ্চলিক পরিষদে আমৃত্যু পর্যন্ত একজন সদস্য হিসেবে ছিলেন সুধাসিন্ধু খীসা।
এক এগারোর সময়ে দেশে জরুরী অবস্থা চলাকালীন সময়ে জনসংহতি সমিতিতে আভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দেয়।
পরবর্তীতে উক্ত আভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে পার্টির ৮ম জাতীয় সম্মেলনের পর পরই বেশ কিছু কেন্দ্রীয় নেতাকে অপদ্ধতিগতভাবে সরিয়ে দিয়েছিলেন সন্তু লারমা। এরপর সরিয়ে দেয়া উক্ত নেতাদের নিয়ে সন্তু লারমা বিভিন্ন আপত্তিকর বিশেষণে বিভূষিত করে অপ্প্রচার চালিয়েছিলেন।
ফলে জনসংহতি সমিতির তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্তি চলে আসে এবং পার্টির খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি কেন্দ্রীক বিভক্ত হয়ে পড়ে।
এরই প্রেক্ষাপটে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ বৈঠক ছাড়া একক সিদ্ধান্তে নবম জাতীয় সম্মেলনের কার্যাবলী চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত করেন এবং ২৯-৩১ মার্চ ২০১০ একতরফাভাবে,অগঠনতান্ত্রিকভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত করেন।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রুপায়ন দেওয়ান,সহসভাপতি সুধাসিন্ধু খীসা,সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রশেখর চাকমা,সহ সাধারণ সম্পাদক তাতিন্দ্র লাল চাকমাকে বাদ দেন।
যেখানে সন্তু লারমা তাঁর একগুঁয়েমি,সেচ্ছাচারী,স্বৈরাচারী,বল প্রয়োগের রাজনীতি,স্বজনপ্রীতি ও অধঃপতিত নেতৃত্বকে প্রকাশ করেছিলেন।
পার্টির এই চরম দুঃসময়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বকে প্রত্যাখান করে পার্টির সচেতন কর্মীবৃন্দ ২০১০ সালের ১০ এপ্রিল
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার বড়াদাম হাইস্কুল মাঠে এক বিশেষ কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে এবং দীঘিনালা ঘোষণা নামে একটি ঘোষণাপত্র দেয়া হয়।
যে ঘোষণা পত্রে সন্তু লারমার কর্তৃক অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনকে প্রত্যাখান করে ৭ সদস্যক নতুন একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
উক্ত ৭ সদস্যের আহবায়ক কমিটিতে যারা ছিলেন তারা হচ্ছেন শ্রী সুধাসিন্ধু খীসা ও শ্রী রুপায়ন দেওয়ান যুগ্ম আহবায়ক,শ্রী তাতিন্দ্র লাল চাকমা সদস্য সচিব,প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি ত্রিপুরা,এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা,শ্রী উদয় কিরণা ত্রিপুরা ও শ্রীমতি কাকলি খীসা।
এর পরবর্তী জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুধাসিন্ধু খীসা জনসংহতি সমিতির সভাপতি পদ লাভ করেন।
তিনি বিভক্ত জনসংহতি সমিতিতে ২ পিরিয়ড সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন।
গত ১৫-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০,১২ তম জাতীয় সম্মেলনে শ্রী সুধাসিন্ধু খীসা বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেন।
বিগত নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ নং রাঙামাটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছিলেন।
কথিত আছে যে তিনি শান্তিবাহিনীর দীর্ঘ দুই যুগের অধিক সশস্ত্র সংগ্রামে পার্টির পক্ষ হতে একটি মাত্র শার্ট গ্রহণ করেছিলেন।যার কারণ হিসেবে তিনি ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান।
একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামে তাঁর জন্মদাতা পিতা 'ন লাখ মুনি মহাজন' নামে প্রসিদ্ধ ছিল।
ছিল অঢেল সম্পত্তির মালিক। তিনি যদি চাইতেন ঢাকা-চট্টগ্রামের মত শহরে বড় বড় প্লাটবাড়িও করতে পারতেন।
না তা করেননি তিনি,কাটিয়েছেন কুড়েঘরের মত একটি সরকারি বাসভবনে।
পাহাড়ের অধিকার হারা দুঃখ পীড়িত মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন নিজের সমস্ত জীবন।
কিন্তু তিনি ছিলেন আজন্ম সংগ্রামী,ত্যাগী,নিষ্ঠাবান,নিঃস্বার্থ একজন নেতা।
আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি যে ভাতা পেতেন,এবং শান্তিবাহিনীর যে রেশন পেতেন তাঁর একটিও তিনি ভোগ করেননি।বিলিয়ে দিয়েছেন অভুক্ত-গরীব মানুষদের।
২৪ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের দিনগুলোতে পার্টির শীর্ষ নেতাদের লোভ,দুর্নীতি ও অন্যায় গ্রাস করতে না পারার পিছনে সুধাসিন্ধুর খীসার প্রভাব ছিল ব্যাপক। তিনি ছিলেন সৎ থেকেও সৎ,যা সমগ্র পার্টির নেতা-কর্মীদের প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছিল।
একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামে তাঁর জন্মদাতা পিতা 'ন লাখ মুনি মহাজন' নামে প্রসিদ্ধ ছিল।
ছিল অঢেল সম্পত্তির মালিক। তিনি যদি চাইতেন ঢাকা-চট্টগ্রামের মত শহরে বড় বড় প্লাটবাড়িও করতে পারতেন।
না তা করেননি তিনি,কাটিয়েছেন কুড়েঘরের মত একটি সরকারি বাসভবনে।
পাহাড়ের অধিকার হারা দুঃখ পীড়িত মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন নিজের সমস্ত জীবন।
কিন্তু তিনি ছিলেন আজন্ম সংগ্রামী,ত্যাগী,নিষ্ঠাবান,নিঃস্বার্থ একজন নেতা।
আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি যে ভাতা পেতেন,এবং শান্তিবাহিনীর যে রেশন পেতেন তাঁর একটিও তিনি ভোগ করেননি।বিলিয়ে দিয়েছেন অভুক্ত-গরীব মানুষদের।
২৪ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের দিনগুলোতে পার্টির শীর্ষ নেতাদের লোভ,দুর্নীতি ও অন্যায় গ্রাস করতে না পারার পিছনে সুধাসিন্ধুর খীসার প্রভাব ছিল ব্যাপক। তিনি ছিলেন সৎ থেকেও সৎ,যা সমগ্র পার্টির নেতা-কর্মীদের প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছিল।
১৯৫৭ সালে এমএন লারমার নেতৃত্বে গড়ে উঠে পাহাড়ী ছাত্র সমিতি।
১৯৬২ সালে এমএনলারমার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয় জুম্ম ছাত্র সমাজের প্রথম ঐতিহাসিক ছাত্র সম্মেলন।
সম্মেলনের মধ্য দিয়েই জুম্ম ছাত্র সমাজের বিপ্লবী কার্যকলাপ আরো জোরদার হতে থাকে।
কাপ্তাই বাঁধের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজের আন্দোলন জোরদার হতে থাকে,১৯৬৩ সালে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে অভিযুক্ত করে এমএনলারমাকে পাক সরকার গ্রেফতার করে।
এমএন লারমা একদিকে পাকিস্তান সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠলেন অন্যদিকে ছাত্র তরুণ সমাজের উদীয়মান নেতাদের প্রগতিশীল চিন্তায় সংগঠিত করে সমাজের বাছাই করা শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার উপর গভীর মনযোগ দিতে থাকেন।
এভাবে এমএন লারমার নেতৃত্বে জুম্ম সমাজে ১৯৭০ সালে প্রকৃতপক্ষে নবজাগরণের অভ্যুদয় ঘটে।
পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে ১৯৭২ সালে আত্মপ্রকাশ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।
যার সাথে জড়িয়ে আছে একজন মেহনতি মানুষের নেতা শ্রী সুধাসিন্ধু খীসার অবদান।
সুধাসিন্ধু খীসা অন্য দশ পাঁচজন নেতার মত উড়ে এসে জুড়ে বসা কোন রাজনীতিবিদ নন।দীর্ঘ সময়ের লড়াই-সংগ্রাম করে,আত্মত্যাগের মাধ্যমে তীল তীল করে গড়ে উঠা একজন রাজনীতিবিদ।
পার্টি গঠন,শান্তিবাহিনীর সৃষ্টি,৮৩'র গৃহযুদ্ধ,গৃহযুদ্ধের অবসান,পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানকল্পে রাষ্ট্রের সাথে ২৬ বারের বৈঠক অবশেষে চুক্তি,চুক্তি পরবর্তী ইউপিডিএফের সাথে সংঘাত দেখেছেন,জেএসএসে বিভাজন দেখেছেন,কতকিছুরই না স্বাক্ষী তিনি,কত ক্ষেত্রেই না নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন জাতির প্রয়োজনে।
১৯৮৭ সালের ১৭ই ডিসেম্বর জনসংহতি সমিতি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আইন পরিষদসহ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন সম্বলিত যে ৫ দফা দাবীনামা উত্তাপন করা হয়,সেই ৫ দফা দাবীনামার অন্যতম রুপকার ছিলেন এই সুধাসিন্ধু খীসা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে সুধাসিন্ধু খীসা ছিলেন একজন মহারথী,যাকে বাদ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস কখনো সম্পূর্ণ হবেনা।
১৯৬২ সালে এমএনলারমার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয় জুম্ম ছাত্র সমাজের প্রথম ঐতিহাসিক ছাত্র সম্মেলন।
সম্মেলনের মধ্য দিয়েই জুম্ম ছাত্র সমাজের বিপ্লবী কার্যকলাপ আরো জোরদার হতে থাকে।
কাপ্তাই বাঁধের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজের আন্দোলন জোরদার হতে থাকে,১৯৬৩ সালে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে অভিযুক্ত করে এমএনলারমাকে পাক সরকার গ্রেফতার করে।
এমএন লারমা একদিকে পাকিস্তান সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠলেন অন্যদিকে ছাত্র তরুণ সমাজের উদীয়মান নেতাদের প্রগতিশীল চিন্তায় সংগঠিত করে সমাজের বাছাই করা শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার উপর গভীর মনযোগ দিতে থাকেন।
এভাবে এমএন লারমার নেতৃত্বে জুম্ম সমাজে ১৯৭০ সালে প্রকৃতপক্ষে নবজাগরণের অভ্যুদয় ঘটে।
পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে ১৯৭২ সালে আত্মপ্রকাশ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।
যার সাথে জড়িয়ে আছে একজন মেহনতি মানুষের নেতা শ্রী সুধাসিন্ধু খীসার অবদান।
সুধাসিন্ধু খীসা অন্য দশ পাঁচজন নেতার মত উড়ে এসে জুড়ে বসা কোন রাজনীতিবিদ নন।দীর্ঘ সময়ের লড়াই-সংগ্রাম করে,আত্মত্যাগের মাধ্যমে তীল তীল করে গড়ে উঠা একজন রাজনীতিবিদ।
পার্টি গঠন,শান্তিবাহিনীর সৃষ্টি,৮৩'র গৃহযুদ্ধ,গৃহযুদ্ধের অবসান,পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানকল্পে রাষ্ট্রের সাথে ২৬ বারের বৈঠক অবশেষে চুক্তি,চুক্তি পরবর্তী ইউপিডিএফের সাথে সংঘাত দেখেছেন,জেএসএসে বিভাজন দেখেছেন,কতকিছুরই না স্বাক্ষী তিনি,কত ক্ষেত্রেই না নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন জাতির প্রয়োজনে।
১৯৮৭ সালের ১৭ই ডিসেম্বর জনসংহতি সমিতি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আইন পরিষদসহ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন সম্বলিত যে ৫ দফা দাবীনামা উত্তাপন করা হয়,সেই ৫ দফা দাবীনামার অন্যতম রুপকার ছিলেন এই সুধাসিন্ধু খীসা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে সুধাসিন্ধু খীসা ছিলেন একজন মহারথী,যাকে বাদ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস কখনো সম্পূর্ণ হবেনা।
![]() |
| Odong chakama এর ফেসবুক ওয়াল থেকে |
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে তাই বলে এই মহান মানুষটির অবদান ভুলে গিয়ে আমরা যদি অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দিই তা কখনো একজন প্রকৃত সচেতন রাজনীতিবিদের কাজ হতে পারেনা।
পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক মত পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে উঠেছে,
আগামীতেও উঠবে।পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক,আলোচনা,সমালোচনা হচ্ছে,হবে।বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল
আওয়ামীলীগ-বিএনপি,প্রতিপক্ষের কোন নেতা মারা গেলে তারা শোক জানায়।
অথচ আমাদের জুম্মদের মাঝে আমরা প্রতিপক্ষ মানেই চিরশত্রু ভাবী,প্রতিপক্ষ সংগঠনের কোন নেতা মারা গেলে শোক তো দূরের কথা উল্টো মুরগি-শূকর কেটে খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সুধাসিন্ধু খীসার মৃত্যুতে প্রতিপক্ষের অনেকে কটুক্তি করেছে বলে আমি এসব বলছিনা,আমি বলছি জাতি হিসেবে আমরা হিংস্র হয়ে যাচ্ছি,মানবতাবোধ আমরা হারাচ্ছি,নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নে আমরা হয়ে পড়ছি শূণ্য।
আগামীতে শ্রীযুক্ত সন্তু লারমা, শ্রীযুক্ত প্রসীত খীসারা মারা গেলে যদি আপনারাও অশ্রাব্য কটুক্তি শুনতে পান তাহলে অবাক হওয়ারও কিছু থাকবেনা।
কারণ আমরা জাতি হিসেবেই নিকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছি,আমাদের কাছে ভালো কিছুই আর সহ্য হয়না।
পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক মত পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে উঠেছে,
আগামীতেও উঠবে।পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক,আলোচনা,সমালোচনা হচ্ছে,হবে।বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল
আওয়ামীলীগ-বিএনপি,প্রতিপক্ষের কোন নেতা মারা গেলে তারা শোক জানায়।
অথচ আমাদের জুম্মদের মাঝে আমরা প্রতিপক্ষ মানেই চিরশত্রু ভাবী,প্রতিপক্ষ সংগঠনের কোন নেতা মারা গেলে শোক তো দূরের কথা উল্টো মুরগি-শূকর কেটে খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সুধাসিন্ধু খীসার মৃত্যুতে প্রতিপক্ষের অনেকে কটুক্তি করেছে বলে আমি এসব বলছিনা,আমি বলছি জাতি হিসেবে আমরা হিংস্র হয়ে যাচ্ছি,মানবতাবোধ আমরা হারাচ্ছি,নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নে আমরা হয়ে পড়ছি শূণ্য।
আগামীতে শ্রীযুক্ত সন্তু লারমা, শ্রীযুক্ত প্রসীত খীসারা মারা গেলে যদি আপনারাও অশ্রাব্য কটুক্তি শুনতে পান তাহলে অবাক হওয়ারও কিছু থাকবেনা।
কারণ আমরা জাতি হিসেবেই নিকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছি,আমাদের কাছে ভালো কিছুই আর সহ্য হয়না।
সুধাসিন্ধু খীসা ছিলেন উপজাতীয় শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের একজন সদস্য।
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ষ্পেশাল এ্যাফেয়ার্স বিভাগ,
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা-এর স্মারক নং-ষ্পেঃএ্যাঃবিঃ(প্রঃ-১)-১(ঞ)/৯৫(অংশ-১)/১৮৫, তাং- ৮/৪/১৯৯৭খি. মোতাবেক ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির হতে বাংলাদেশী উপজাতীয় শরণার্থীর দেশে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও তাদের পুনর্বাসন তথা সরকার ঘোষিত ২০(বিশ) দফা প্যাকেজ সুবিধা বাস্তবায়নে সহায়তা ও পর্যবেক্ষণকল্পে সরকার ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স গঠন করে।
"শান্তিবাহিনী গেরিলা জীবন" নামক বইতে লেখক গোলাম মোর্তাজা ১৫৯-১৬০ পৃষ্ঠায় সুধাসিন্ধু খীসার একটি সাক্ষৎকার তুলে ধরেন।তা এখানে হুবহু তুলে ধরলাম-
"উপজাতীয় শরনার্থী ও উপজাতীয় উদ্বাস্তু পুনর্বাসন টাস্কফোর্সের সদস্য সুধাসিন্ধু খীসার কথা হলো খাগড়াছড়ির পানখাইয়া পাড়ার জনসংহতি সমিতি অফিসে।তিনি বলেন,টাস্কফোর্সের মিটিংয়ে আলোচনা হয়।সেটা তখন লেখা হয়না।কার্যবিবরণী লেখা হয় পরে।আবার যেটা যে বিষয়ে আলোচনা হয় সেটা সেভাবে লেখা হয়না।টাস্কফোর্সের মিটিং হয়েছে নয়টি।কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।টাস্কফোর্স অ-উপজাতীয়দের পুনর্বাসন করতে চায়।
যা চুক্তি বিরোধী।
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ষ্পেশাল এ্যাফেয়ার্স বিভাগ,
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা-এর স্মারক নং-ষ্পেঃএ্যাঃবিঃ(প্রঃ-১)-১(ঞ)/৯৫(অংশ-১)/১৮৫, তাং- ৮/৪/১৯৯৭খি. মোতাবেক ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির হতে বাংলাদেশী উপজাতীয় শরণার্থীর দেশে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও তাদের পুনর্বাসন তথা সরকার ঘোষিত ২০(বিশ) দফা প্যাকেজ সুবিধা বাস্তবায়নে সহায়তা ও পর্যবেক্ষণকল্পে সরকার ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স গঠন করে।
"শান্তিবাহিনী গেরিলা জীবন" নামক বইতে লেখক গোলাম মোর্তাজা ১৫৯-১৬০ পৃষ্ঠায় সুধাসিন্ধু খীসার একটি সাক্ষৎকার তুলে ধরেন।তা এখানে হুবহু তুলে ধরলাম-
"উপজাতীয় শরনার্থী ও উপজাতীয় উদ্বাস্তু পুনর্বাসন টাস্কফোর্সের সদস্য সুধাসিন্ধু খীসার কথা হলো খাগড়াছড়ির পানখাইয়া পাড়ার জনসংহতি সমিতি অফিসে।তিনি বলেন,টাস্কফোর্সের মিটিংয়ে আলোচনা হয়।সেটা তখন লেখা হয়না।কার্যবিবরণী লেখা হয় পরে।আবার যেটা যে বিষয়ে আলোচনা হয় সেটা সেভাবে লেখা হয়না।টাস্কফোর্সের মিটিং হয়েছে নয়টি।কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।টাস্কফোর্স অ-উপজাতীয়দের পুনর্বাসন করতে চায়।
যা চুক্তি বিরোধী।
টাস্কফোর্সের বৈঠক থেকে আপনারা ওয়াক আউট করলেন কেন?
'ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরনার্থী ও অভ্যন্তরীণ উপজাতীয় উদ্বাস্তু পুনর্বাসন করার জন্যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।কিন্তু সরকার টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অ-উপজাতীয়দের পুনর্বাসন করতে চায়।এখন আমি তো জনসংহতি সমিতির সদস্য হিসেবে চুক্তিবিরোধী কাজ করতে পারিনা।মন্ত্রী কল্পরঞ্জন এবং সাংসদ দীপঙ্কর তালুকদার একটা প্রসঙ্গ উঠলেই বলেন,উপরের সঙ্গে আলোচনা না করে আমি কিছু করতে পারবনা।এখন আমার কথা হলো আপনার যদি কোন ক্ষমতাই না থাকে তাহলে আমরা আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করবো কেন?'
'ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরনার্থী ও অভ্যন্তরীণ উপজাতীয় উদ্বাস্তু পুনর্বাসন করার জন্যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।কিন্তু সরকার টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অ-উপজাতীয়দের পুনর্বাসন করতে চায়।এখন আমি তো জনসংহতি সমিতির সদস্য হিসেবে চুক্তিবিরোধী কাজ করতে পারিনা।মন্ত্রী কল্পরঞ্জন এবং সাংসদ দীপঙ্কর তালুকদার একটা প্রসঙ্গ উঠলেই বলেন,উপরের সঙ্গে আলোচনা না করে আমি কিছু করতে পারবনা।এখন আমার কথা হলো আপনার যদি কোন ক্ষমতাই না থাকে তাহলে আমরা আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করবো কেন?'
অ-উপজাতীয়দের সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আপনাদের আসলে কি কথা হয়েছে?আপনারা সব সময়ই বলেন চুক্তির বাইরেও চুক্তি আছে।
'তিনি বলেন, 'প্রধান্মন্ত্রী থেকে শুরু করে আবুল হাসানত আব্দুল্লাহ পর্যন্ত সবাই বলেছেন,আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখেন,আমরা আপনাদের বিষয়টি দেখবো।আমি ঢাকায় গিয়ে আবুল হাসানত আব্দুল্লাহর সঙ্গে দেখা করে তাকে বলেছি,আপনি আমার চোখের দিকে তাকান।আপনি বললেন পাহাড় থেকে আস্তে আস্তে অ-উপজাতীয়দের সরিয়ে নিয়ে আসবেন।সেখানে মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমাও উপস্থিত ছিলেন।স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকে উপজাতি-অ-উপজাতি উভয়কেই পুনর্বাসন করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল।আমার কথার পর আবুল হাসানত আব্দুল্লাহ মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমাকে সেই চিঠি উইড্র করতে বলেন।'
'তিনি বলেন, 'প্রধান্মন্ত্রী থেকে শুরু করে আবুল হাসানত আব্দুল্লাহ পর্যন্ত সবাই বলেছেন,আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখেন,আমরা আপনাদের বিষয়টি দেখবো।আমি ঢাকায় গিয়ে আবুল হাসানত আব্দুল্লাহর সঙ্গে দেখা করে তাকে বলেছি,আপনি আমার চোখের দিকে তাকান।আপনি বললেন পাহাড় থেকে আস্তে আস্তে অ-উপজাতীয়দের সরিয়ে নিয়ে আসবেন।সেখানে মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমাও উপস্থিত ছিলেন।স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকে উপজাতি-অ-উপজাতি উভয়কেই পুনর্বাসন করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল।আমার কথার পর আবুল হাসানত আব্দুল্লাহ মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমাকে সেই চিঠি উইড্র করতে বলেন।'
অ-উপজাতি বাঙালীদের কিভাবে সরিয়ে নেয়ার কথা বলেছিলেন?
'আবুল হাসানত আবদুল্লাহ আমাকে বলেছিলেন, 'পর্যায়ক্রমে বাঙালিদের আর্থিক সাপোর্ট দেয়া বন্ধ করে দেয়া হবে।
'আবুল হাসানত আবদুল্লাহ আমাকে বলেছিলেন, 'পর্যায়ক্রমে বাঙালিদের আর্থিক সাপোর্ট দেয়া বন্ধ করে দেয়া হবে।
রেশন বন্ধ করে দেয়া হবে।ল্যান্ড কমিশন হলে জমি হারিয়ে বাঙালিরা চলে আসতে বাধ্য হবে।কিন্তু এই দুই বছরে মাত্র পাঁচটি ভূমি বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে।ভূমি বিরোধ আছে তিন হাজারের ওপরে।মীমাংসার গতি যদি দুই বছরে পাঁচটা হয় তাহলে কত বছর লাগবে?এর অর্থ কি আমরা বুঝিনা?'
কিন্তু বাস্তবে কি বাঙালীদের সরিয়ে নেয়া সম্ভব?
'কেন সম্ভব নয়?সরকার ইচ্ছে করলেই এদের দেশের অন্যত্র পুনর্বাসন করতে পারে।বাইরে থেকে ফান্ড আনতে পারে।চাইলে এ ব্যাপারে আমরাও সহযোগিতা করতে পারি।'
'কেন সম্ভব নয়?সরকার ইচ্ছে করলেই এদের দেশের অন্যত্র পুনর্বাসন করতে পারে।বাইরে থেকে ফান্ড আনতে পারে।চাইলে এ ব্যাপারে আমরাও সহযোগিতা করতে পারি।'
চুক্তি হয়েছে কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছেনা।তাহলে চুক্তি হয়ে লাভটা কি হলো?
'এ প্রশ্ন পাহাড়ীদের।পার্বত্য অঞ্চলের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা সবারই জানা।পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যা শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত।এই চুক্তির মানুষ এই ভেবে খুশি হয়েছিল যে,পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা হলো।সন্তু লারমা বলেছেন সরকারের একটি বিশেষ মহল চুক্তি বাস্তবায়ন করছেনা।অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমা ও সাংসদ দীপঙ্কর তালুকদার বলছেন, চুক্তির পর বাস্তবায়নে তারা সন্তুষ্ট।পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
কিন্তু সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের সঙ্গে এই বক্তব্যের কোন মিল নেই।সন্তু লারমার কথারই সত্যতার প্রমাণ মেলে।
রাজনৈতিক টানাপোড়নের অসহায় শিকার সাধারণ পাহাড়িরা।
এই বিদ্রোহী জনপদের মানুষ আবার বিক্ষুব্দ হয়ে উঠছে।পথে পথে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষোভ আর হতাশা।
সুধাসিন্ধু খীসা ২০১৬ সালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর পরিবার,আত্মীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধব ও পার্টির পক্ষ থেকে বিদেশে গিয়ে উন্নত চিকিৎসার কথা বলা হলেও,তিনি বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে অপরাগ ছিলেন।বলেছিলেন আমি যদিওবা উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যায় লোকে বলবে অমুক বাবু জনগণের টাকা দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করাচ্ছে!
'এ প্রশ্ন পাহাড়ীদের।পার্বত্য অঞ্চলের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা সবারই জানা।পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যা শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত।এই চুক্তির মানুষ এই ভেবে খুশি হয়েছিল যে,পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা হলো।সন্তু লারমা বলেছেন সরকারের একটি বিশেষ মহল চুক্তি বাস্তবায়ন করছেনা।অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমা ও সাংসদ দীপঙ্কর তালুকদার বলছেন, চুক্তির পর বাস্তবায়নে তারা সন্তুষ্ট।পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
কিন্তু সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের সঙ্গে এই বক্তব্যের কোন মিল নেই।সন্তু লারমার কথারই সত্যতার প্রমাণ মেলে।
রাজনৈতিক টানাপোড়নের অসহায় শিকার সাধারণ পাহাড়িরা।
এই বিদ্রোহী জনপদের মানুষ আবার বিক্ষুব্দ হয়ে উঠছে।পথে পথে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষোভ আর হতাশা।
![]() |
| সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সুধাসিন্ধু খীসা |
যার কারণে উনি মৃত্যু আগ পর্যন্ত দেশে থেকেই চিকিৎসা চালিয়ে গিয়েছিলেন।
এবং সর্বশেষ ৯ জুন ২০২০ মধ্যরাত ১২টা ৫ মিনিটে অর্থাৎ ১০জুন ২০২০ পাড়ি জমান না পেরার দেশে।
তাঁর মৃত্যুতে পার্টিতে নেমে আসে শোকের ছায়া।পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেন।
এবং সর্বশেষ ৯ জুন ২০২০ মধ্যরাত ১২টা ৫ মিনিটে অর্থাৎ ১০জুন ২০২০ পাড়ি জমান না পেরার দেশে।
তাঁর মৃত্যুতে পার্টিতে নেমে আসে শোকের ছায়া।পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেন।
![]() |
| প্রয়াত শ্রী সুধাসিন্ধু খীসার শবদেহ |
![]() |
| প্রয়াত শ্রী সুধাসিন্ধু খীসার শবদেহ |
![]() |
| প্রয়াত শ্রী সুধাসিন্ধু খীসার শবদেহ |
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ও প্রগতিশীল ছাত্র জোটের প্রধান সমন্বয়ক আল কাদেরী জয় শ্রী সুধাসিন্ধু খীসাকে স্মরণ করে তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল---
"বাঙ্গালীরা আমাদের শত্রু নয়,পাহাড়িরাও বাঙালিদের শত্রু নয়।আমাদের শত্রু একটাই -দেশের ও আন্তর্জাতিক শাসকগোষ্ঠী.. তাই আমাদের যুদ্ধটাও এক!"
কথাগুলো বলেছিলেন জুম্ম জনগণের মুক্তির অন্যতম বিপ্লবী নেতা সুধাসিন্ধু খীসা।
গতরাতে এই মহান বিপ্লবীর মহাপ্রয়াণ ঘটে।
২০১২ সালে খাগড়াছড়ির মহাজনপাড়ায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রোগ্রামে তাঁর সাথে প্রথম পরিচয় হয়।সাথে ছিলেন আরেকজন প্রয়াত নেতা সূদীর্ঘ চাকমা।
সুধাসিন্ধু খীসাদা'র খাগড়াছড়ির বাসায় যখন আমরা পৌঁছায় তখন তিনি বারান্দায় বসে ছিলেন।সামনে ছিলো রবীন্দ্র রচনাবলীর পুরু একখন্ড। সেদিনই আলাপকালে বুঝতে পারি- এই ছোটখাটো মানুষটির মাঝে কি বিশাল ও প্রজ্ঞার শক্তি রয়েছে!
সেদিন প্রথম পরিচয়েই কথায় কথায় আফসোস করার সুরে বলতে থাকেন-"আমরা পারি নি,তবু চেষ্টা করছি। বামপন্থীরা দূর্বল বলে আজকে আমাদের পাহাড়িদের শক্তিও অনেক কমে গেছে। নিজেদের মাঝে বেড়েছে বিবাদ ও সংঘাত...।"
সেই আলাপকালে তাঁকে বললাম আমাকে আপনি না বলে তুমি করে বলবেন। তারপর মৃদু হেসে আমার পড়াশোনা কোথায়, কই থাকি বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।
উত্তর শুনে বলেন-"তোমাদের মতো তরুণরা সমাজবদলের রাজনীতি করে-এটাই তো আমাদের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা।"
এতো বড় একজন নেতা হয়েও কি সহজে মানুষের সাথে মিশে যেতে পারেন,সেটা এই মানুষটার সান্নিধ্যে এসে সেদিন বুঝেছিলাম।
দাদার সাথে ২য় দেখা হয় ২০১৪ কি ১৫ সালে। সেটাও পিসিপির আরেকটা সন্মেলনে। সেইবার আমারও খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল।দলত্যাগীরা চলে যাওয়ায় সাংগঠনিক ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা চলছে সারাদেশে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও তাই এর প্রভাব পড়ে। দল ভাঙনের কথা শুনে সুধাসিন্ধুদা সেইবার খুব দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।বলেছিলেন-"আমরাও তো এরকম দলীয় সংকটের মাঝে আছি,তাই বুঝি এর কষ্ট।"
বাসদ সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামানের প্রশংসা করেছিলেন,বলেছিলেন-রিয়েল রাজনীতিবিদ।সেইবার আরো অনেক আলাপে ভালো করে রাজনীতি করার উৎসাহ দিয়েছিলেন।
"বাঙ্গালীরা আমাদের শত্রু নয়,পাহাড়িরাও বাঙালিদের শত্রু নয়।আমাদের শত্রু একটাই -দেশের ও আন্তর্জাতিক শাসকগোষ্ঠী.. তাই আমাদের যুদ্ধটাও এক!"
কথাগুলো বলেছিলেন জুম্ম জনগণের মুক্তির অন্যতম বিপ্লবী নেতা সুধাসিন্ধু খীসা।
গতরাতে এই মহান বিপ্লবীর মহাপ্রয়াণ ঘটে।
২০১২ সালে খাগড়াছড়ির মহাজনপাড়ায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রোগ্রামে তাঁর সাথে প্রথম পরিচয় হয়।সাথে ছিলেন আরেকজন প্রয়াত নেতা সূদীর্ঘ চাকমা।
সুধাসিন্ধু খীসাদা'র খাগড়াছড়ির বাসায় যখন আমরা পৌঁছায় তখন তিনি বারান্দায় বসে ছিলেন।সামনে ছিলো রবীন্দ্র রচনাবলীর পুরু একখন্ড। সেদিনই আলাপকালে বুঝতে পারি- এই ছোটখাটো মানুষটির মাঝে কি বিশাল ও প্রজ্ঞার শক্তি রয়েছে!
সেদিন প্রথম পরিচয়েই কথায় কথায় আফসোস করার সুরে বলতে থাকেন-"আমরা পারি নি,তবু চেষ্টা করছি। বামপন্থীরা দূর্বল বলে আজকে আমাদের পাহাড়িদের শক্তিও অনেক কমে গেছে। নিজেদের মাঝে বেড়েছে বিবাদ ও সংঘাত...।"
সেই আলাপকালে তাঁকে বললাম আমাকে আপনি না বলে তুমি করে বলবেন। তারপর মৃদু হেসে আমার পড়াশোনা কোথায়, কই থাকি বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।
উত্তর শুনে বলেন-"তোমাদের মতো তরুণরা সমাজবদলের রাজনীতি করে-এটাই তো আমাদের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা।"
এতো বড় একজন নেতা হয়েও কি সহজে মানুষের সাথে মিশে যেতে পারেন,সেটা এই মানুষটার সান্নিধ্যে এসে সেদিন বুঝেছিলাম।
দাদার সাথে ২য় দেখা হয় ২০১৪ কি ১৫ সালে। সেটাও পিসিপির আরেকটা সন্মেলনে। সেইবার আমারও খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল।দলত্যাগীরা চলে যাওয়ায় সাংগঠনিক ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা চলছে সারাদেশে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও তাই এর প্রভাব পড়ে। দল ভাঙনের কথা শুনে সুধাসিন্ধুদা সেইবার খুব দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।বলেছিলেন-"আমরাও তো এরকম দলীয় সংকটের মাঝে আছি,তাই বুঝি এর কষ্ট।"
বাসদ সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামানের প্রশংসা করেছিলেন,বলেছিলেন-রিয়েল রাজনীতিবিদ।সেইবার আরো অনেক আলাপে ভালো করে রাজনীতি করার উৎসাহ দিয়েছিলেন।
তাঁর সাথে সর্বশেষ দেখা ও কথা হয়েছিলো ২০১৭ সালে বাঘাইছড়িতে।শহরে প্রোগ্রামের অনুমতি না পেয়ে ও সংঘর্ষ এড়াতে খাগড়াছড়ি থেকে বেশ দূরেই রাঙামাটি সীমান্তে প্রোগ্রামটি হয়।সেইবার সাথে ছিলো Mehdi Hasan Nobel ও Sujon Biplob। এই প্রোগ্রামে দাদাকে খুব অসুস্থ মনে হচ্ছিল। নিজেও বলেছিলেন- 'শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, মনটাও ভালো নেই। ' বক্তৃতার মাঝেও যেন ছিলো সেই বেদনা ও কষ্টের সুর।বক্তৃতার মাঝখানেই হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। পরে একরকম অসুস্থ অবস্থায় অসমাপ্ত বক্তব্য রেখেই চলে গিয়েছিলেন... আর দেখা হয় নি।
পাবর্ত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএন লারমা)'র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য ছিলেন।তাঁর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা,মন্তব্য, আলোচনা-সমালোচনা থাকতে পারে।
কিন্তু তিনি ছিলেনএকজন সাহসী যোদ্ধা ও জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার একজন নিরলস সেনাপতি।তরুণ বয়সেই চোখে ছিলো সমাজবিপ্লবের স্বপ্ন ও পাহাড়ি জনগণের মুক্তির আকুতি।ষাটের দশকে ছাত্রজীবনে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা ছিলেন।ছিলেন প্রচন্ড ক্ষুরধার স্মৃতিশক্তি ও আকর্ষণীয় বক্তা।এম.এন লারমা'র অন্যতম সহযোদ্ধা।বয়সে বৃদ্ধ হলেও চিন্তায় মননে ও সাহসিকতায় তিনি ছিলেন চিরসবুজ তরুণ!
তাঁর এই চলে যাওয়াটা- The end of journey but not the end of mission!
আজকে এই মহান বিপ্লবীর শেষযাত্রায় জানাই সশ্রদ্ধ ভালোবাসা ও তাঁর স্মৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা!
তাঁর এই চলে যাওয়াটা- The end of journey but not the end of mission!
আজকে এই মহান বিপ্লবীর শেষযাত্রায় জানাই সশ্রদ্ধ ভালোবাসা ও তাঁর স্মৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা!
পাহাড় এবং সমতলে- লড়াই হবে সমানতালে!
বিপ্লবী সুধাসিন্ধু খীসা! লাল সালাম! ✊
মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী,দুই মেয়ে ও এক ছেলে।১০জুন ২০২০ নিজ জন্মভূমি মহালছড়ির কুলারাম পাড়ায় সামাজিক রীতিনীতি মেনে তাঁর দাহকার্য সম্পাদন করা হয়।
জুম্ম জনগণ তাঁর অবদান কোনকালেই ভুলতে পারবেনা,তিনি বেঁচে থাকবেন জুম্মদের হৃদয়ে আজীবন।
ইতিহাসে লেখা থাকবে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে।
জুম্ম জনগণ তাঁর অবদান কোনকালেই ভুলতে পারবেনা,তিনি বেঁচে থাকবেন জুম্মদের হৃদয়ে আজীবন।
ইতিহাসে লেখা থাকবে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে।
তাঁর জনপ্রিয় কিছু উক্তি হলো-
"দুনিয়াকে জেনে দুনিয়াকে বদলানো
আলো জ্বেলে অন্ধকারকে তাড়ানো"
"দুনিয়াকে জেনে দুনিয়াকে বদলানো
আলো জ্বেলে অন্ধকারকে তাড়ানো"
"'লু মা লু হিরে
চ্গা মা চ্গা হিরে।''(মারমা ভাষা)
অর্থাৎ মানুষের ভিতরে মানুষ আছে,কথার ভিতরে কথা আছে।
শ্রী সুধাসিন্ধু খীসার কিছু স্থিরচিত্র
চ্গা মা চ্গা হিরে।''(মারমা ভাষা)
অর্থাৎ মানুষের ভিতরে মানুষ আছে,কথার ভিতরে কথা আছে।
শ্রী সুধাসিন্ধু খীসার কিছু স্থিরচিত্র
![]() |
| ২রা ডিসেম্বর ২০১৭,খাগড়াছড়ি টাউন হল |
![]() |
| ২রা ডিসেম্বর ২০১৬ |
![]() |
| ২রা ডিসেম্বর ২০১০,খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা মাঠ প্রাঙ্গন |
![]() |
| ২০শে মে ২০১৭,রুপালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ,বাঘাইছড়ি,রাঙামাটি |
![]() |
| ৯ আগস্ট ২০১২,মহাজন পাড়া,খাগড়াছড়ি |













No comments:
Post a Comment