Facebook post by
Update: 23 December 2015, Wednesday, Chittagong, 09:03:53amমানবতাবাদ, জাতীয়তাবাদ, অস্তিত্ববাদ একই সূত্রে আবদ্ধ। দুনিয়াজুরে যেখানে রাজনৈতিক মেরুদন্ড দুই মেরুতে, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শিয়া-সুন্নিও সেখানে আলোচ্যবিষয়। এমতাবস্থায় জঙ্গীবাদ, সাম্রাজ্যবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দাঁড়াচ্ছে। জাত্যাভিমান ঢুকে পড়ছে উগ্রপন্থিদের ধমনী শিরায়। সংখ্যাগরিষ্ঠদের দৃষ্টি যখন সংখ্যালঘুদের দিকে তখন মানবতাবোধ, জাতীয়তাবোধ ধীরে ধীরে লোপ পেতে থাকে। প্রকৃত জাতীয়তাবাদ চেতনা মানুষের মগজ থেকে একশ হাত দূরে চলে যায়। মমত্ববোধ, পারস্পরিক সহানুভূতি, সমবেদনা মাইনাস ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে আসে। এধরনের অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি কোনভাবে কাম্য নয়।
বাঙালী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মূলত কোন জাত,ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বৈষম্যহীন সহাবস্থানের পটভূমি মধ্য দিয়ে। এখানে শুধুমাত্র বাঙালী মুসলমানেরা বাঙালী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠিত করেছে এমনটি নয়। অপরাপর ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অবদানও স্বীকৃত। তাছাড়া অবাঙালী তথা আদিবাসী জুম্ম জাতীয়তাবাদও এখানে বাংলাদেশে লক্ষণীয়। তাই বলে এই নয় যে, ভূগৌলিক স্বাতন্ত্র্যতা দাবীর অধিকার রাখে। অনেকে এই বিভ্রান্তিটা কালো ধোঁয়ার মতো ছড়ানোর হীন চেষ্টা চালান। জুম্ম জাতীয়তাবাদ হলো বাঙালী জাতীয়তাবাদকে একত্ববাদে পরিণত হতে অস্বীকার করা। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে প্রতিষ্ঠা করার যৌক্তিক দাবী এটি। বাংলাদেশে যে কেবল বাঙালীরা রয়েছে সেই ধারণা পোষণ না করার সত্য প্রচার কেবল মাত্র জুম্ম আদিবাসীবাদ। বাঙালীরা নিজেদের পাশাপাশি যাতে করে অন্যকেও উপলব্ধি করতে পারে সেই সঠিক চেতনা ও আদর্শই হলো বাঙালী জাতীয়তাবাদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যার যথার্থ বলেছেন যে, আজ সত্যিকারের বাঙালী জাতীয়তাবাদ অনুপস্থিত। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা আজ প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে না। সবার অংশগ্রহণে দেশের উন্নয়ন আজ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। পাকিস্তান রাষ্ট্র আদিবাসীদের অধিকার স্বীকার করে নিয়েছে। মায়ানমারে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া নির্বাচনে সকল জাতিগোষ্ঠী অংশ নিয়েছে। যদিও ধর্মীয় গোষ্ঠীরা তেমনভাবে সুবিধা নিতে পারেনি। নেপালে সম্প্রতি সংবিধান সংশোধিত হলো। সেখানে সকল মানুষের অবদান স্বীকার করে অধিকারের জায়গাটুকু খুলে দেয়া হয়েছে। অষ্ট্রেলিয়ায় আদিবাসীদের জন্য নতুন আইন সংযোজিত হয়েছে। সেইসব দেশ বিশ্বে এখন খ্যাতি অর্জন করেছে। আর আমার সোনার বাংলাদেশ আমাকে ভালবাসতেই দিলো না। আইন- আদালত, অধিকার প্রাপ্তির জায়গাতেও আমি নীপিড়িত, বঞ্চিত ও নির্যাযিত সর্বোপরি মানবাধিকার অনুপস্থিত।
অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ফসল চুক্তিকেও এদেশের সরকার, রাষ্ট্রব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করলো না। সরকার ও বাঙালী জাতীয়তাবাদ তাহলে কি কোন রক্তের বিনিময়ে অর্জনকে অস্বীকার করে????!!!!.। তার অর্থ এই নয় কি তারা মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগকেও অস্বীকার করছে। তাহলে এটি আমাদের জন্য অশণিসংকেত বৈকি। চুক্তি বাস্তবায়িত হচ্ছে বললেও অপরপিঠে পরিপন্থি কাজই বেশি করছে সরকার। তাহলে কি সরকার শুধুমাত্র ইসলামীকিকরণের সরকার, অপর জাতি বিদ্বেষী সরকার, সকল জাতি, ধর্মীয় বৈষম্য করনের সরকার??????
পার্বত্য অঞ্চলের জুম্ম আদিবাসী ও সমতলের আদিবাসীরা কোনকালে শান্তিতে বাস করতে পারে নি। তাছাড়া এদেশের মুক্তমনা মানুষের নিরাপত্তা কখনও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে নি। গরীব,মেনহতি মানুষের অধিকারতো আরো অনেক দূরে। জানি না কোনধরণের ভবিষ্যত আমরা পেতে যাচ্ছি। আমরা কি আদৌ থাকতে পারবো কি না এদেশে। সেরকমটি যদি হয় আবারও অশান্ত হয়ে উঠবে পার্বত্যাঞ্চল। বর্তমান ছাত্র-যুবরা এগিয়ে আসবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে। মহান নেতা এম এন লারমা আজীবন ধর্মীয় মৌলবাদ, উগ্রজাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন। তিনি সবসময় একটি কথাই বলতেন" যে জাতি লড়াই করতে জানে একমাত্র তাদেরই বাঁচার অধিকার আছে"। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী আমরা। রাষ্ট্র ধর্ম হতে হলে সব ধর্মই হওয়া উচিত তাহলে আর ধর্ম নিরপেক্ষতা লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন পড়বে না। সব মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলে বাস কর অতীব জরুরি যেমনটি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। সর্বোপরি মানসিকতা পরিবর্তন করা জরুরি। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো উচিত।
সবার অধিকার প্রতিষ্ঠা পাক,
অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হোক
জয় হোক জুম্ম জনতার, জয় হোক অধিকারকামী সকল মানুষের।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, চট্টগাম।
২৩ ডিসেম্বর, ২০১৫।

No comments:
Post a Comment