যেসময়ে এ লেখাটা লিখতে বসেছি ঠিক ২০ বছর আগেও এসময়টাতে পাহাড়ের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে
বিভিন্ন মেলা বসতো।কিসের মেলা জানেন?
বিঝু,সাংগ্রাই,বৈসু,বিষুকে ঘিরেই তাদের এ আয়োজন।
ঐতিহ্যগত বিভিন্ন খেলা,গান ইত্যাদি হতো নববর্ষের আগ পর্যন্ত।
আনন্দে মাতোয়ারা থাকতো পাহাড়ের প্রতিটি গ্রাম।
পাহাড় থেকে পাহাড়ে আনন্দের সুবাতাস বইতো।
বিঝুর নামটা বললেই মনে আলাদা একটা সুখ অনুভূত হতো প্রতিটি পাহাড়ী মানুষের।
এবছর বৈশিক মহামারী করোনার কারণে কোন আয়োজন হয়তো হচ্ছেনা।
কিন্তু আমাদের পূর্ববর্তী বছরগুলোতেও কি আমরা অতটা আমেজে বিঝুর সুখটা পেয়েছি?কিংবা আগামী বছরগুলোতে কি পাবো?তা সবার অজানা বা অনিশ্চয়তার ছায়া দেখতে পাবে।
৬০ দশকের কাপ্তাই বাঁধ কেড়ে নিয়েছিল,পাহাড়ী মানুষের দৈনন্দিন সুখ।আত্মীয় স্বজনের বিচ্ছেদ,ভূমি হারানোর শোক থামিয়ে দিয়েছিল তাদের জীবনের গতিপথ।
সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ৭২ এ স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে নিজেদের স্থান পাওয়ার তাগিদে পাহাড়ী মানুষেরা দুই যুগের অধিক সশস্ত্র সংগ্রাম করেছিল।যে সময়টাতে বহিরাগত সেটলার বাঙালীদের কর্তৃক ঘরবাড়ি অগ্নিসংযোগ,লুটপাট,ভূমি দখল,পাহাড়ী নারীদের ধর্ষণ,মিলিটারি শাসন,একের পর এক গণহত্যা।এরপর কিছু মানুষের ১২বছরের শরনার্থী জীবন।যেখানে বিঝুর কোন আনন্দ-উৎসব পাহাড়ী মানুষ উপভোগ করতে পারেনি।
৯৭'এর ২রা ডিসেম্বর চুক্তির পর পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইবে বলে পাহাড়ী মানুষেরা আশা করলেও বছর দুয়েক বাদে পাহাড়ে আবার সংঘাত শুরু হয় পাহাড়ী মানুষদের মধ্যে।চুক্তির পর বছর দুয়েক চলেছিল নির্বিঘ্নে বিঝু উৎসব।
সেজন্য প্রথমেই বলেছিলাম ২০বছর আগে।
এভাবে চলতে চলতে পাহাড়ে আজ সংঘাতের সমীকরণ বিভিন্নসময় বিভিন্নভাবে বিভিন্নদিকে মোড় নিয়েছে।লাশের পর লাশ পড়ছে পাহাড়ে!যা আজো চলমান।
তাহলে কোথায় আমাদের বিঝুর উৎসব?
১৯৬০ সালের পর হতে কখনো কি আমরা নির্বিঘ্নে বিঝু উৎসব পালন করতে পেরেছি?
না পারিনাই।
অনেকেই মনে করছেন করোনার কারণে এবছর হলোনা বিঝু উৎসব,
কিন্তু আগের বছর কতটুক করতে পেরেছেন?
আর আগামীতেই বা কতটুকু নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে উৎসব করতে পারবেন বলে আপনাদের মত?
কখনো কি আবার পাহাড়ী মানুষেরা ৬০দশকের আগের দিনগুলোতে ফিরতে পারবে?
১এপ্রিল ২০২০
No comments:
Post a Comment