Thursday, April 2, 2020

বিভেদে গরা সমাজ

ছোটবেলায় আমাদের গ্রাম,পাশ্ববর্তী গ্রামগুলোতে চোখে পরার মত একটা বিষয় ছিলো যে,
স্ত্রী কন্যা সন্তান জন্ম দিলে স্বামী,শশুর-শাশুরীসহ সকলেই তার প্রতি নিন্দা পোষণ করতো।
স্বামীর অত্যাচার সইতে হতো স্ত্রীকে।
একের পর এক পুত্র সন্তানের আশায় মেয়ে সন্তানে ঘর ভর্তি হয়ে যেতো।
সব দোষ গিয়ে চাপতো স্ত্রীর উপর,
গ্রামের ওসব লোকজন জানেই না যে শুক্রানু-ডিম্বানুই এর মূল কারণ।স্বামী-স্ত্রীর ক্রোমোজোম X,Y এর উপর ভিত্তি করেই ওসব সন্তান জন্মায়।তো সেখানে শুধু কেন নারীদের উপর চাপ পড়বে কেন?আর যদি বৈবাহিক জীবনে স্ত্রী পুত্র সন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ হলে সে বোঝা স্ত্রীকে বয়ে বেড়াতে হয় সারাজীবন।
হয়তো অনেকের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটতো,অনেক স্ত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতো।যার সমস্ত দায়ভার এই সমাজেরই।
 কারণ সমাজ সন্তান ভূমিষ্ট হবার পর পরই নারী-পুরুষের বিভেদটা তৈরি করে দেয়।কন্যা সন্তান মানেই অভিশাপ, পুত্র সন্তান হলে আশীর্বাদ এই সেই।
আমাদের সমাজটাই না.....!!
মুসলিম সম্প্রদায়ের কথা একটু বলি,
খুব ছোটবেলায় বলতে শুনতাম কন্যা সন্তান জন্ম হলে নাকি আল্লার গজব,কারণ যৌতুকের বিরাট অংকের অর্থ কন্যার পিতাকে গুনতে হয়।
আর পুত্র সন্তান হলোতো যৌতুকের টাকাটা বুঝি হাতে এলো
বেশ এই।
হয়তো এখন আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে অনেকটা কমে এসেছে।

আর ছেলে সন্তান জন্ম দিলে খুশীতে আত্মহারা হয়ে যেতো আত্মীয়-স্বজনসহ গ্রামের লোকজন।
চলতো মিষ্টি বিতরণ,আমাদের গ্রামগুলোতে ছেলে সন্তান জন্ম হলে স্বামী বিসিআর এনে দেখাতো।
খুশীতে মাতোয়ারা  হয়ে উঠতো চারিপাশ।
পুত্র সন্তান জন্ম দিতে পারলেই বুঝি স্ত্রী বাঁচলো অভিশাপ থেকে।

আরেকটা শ্রেণী আছে যাদের সংসারে কখনো সন্তান আসেনা।তাদের সংসারেও সারাজীবন অশান্তির বাতাস বয়।যার উপর দোষটা গিয়ে পরে স্ত্রীর উপর।
অথচ সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে স্বামী অক্ষম নাকি স্ত্রী তা কেউ বিবেচনা করেনা।
অথবা তাদের জিনগত অমিল কিংবা শুক্রানু-ডিম্বানু,ক্রোমোজমের সমস্যা এসব কিছুই তাদের জানা নেই।
আর সব দোষটা চাপে স্ত্রীর উপর।
দিনের পর দিন স্ত্রী অত্যাচারিত হয় স্বামীর কাছ থেকে শারীরিকভাবে,মানসিকভাবে।
পাড়া-প্রতিবেশী,পরিবার-পরিজনদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত  মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়।
এভাবেই একসময় অনেক মেয়েরা পরকীয়ার পথ বেছে নেয়।
যা একটা নারীর জীবনকে করে তোলে বিষময়।

এই সমাজ সন্তান জন্ম হওয়ার পূর্বেই নির্ধারণ করে রাখতো যে ছেলে হলে কি অধিকার ভোগ করবে,মেয়ে হলে কি অধিকার ভোগ করবে।
ছেলেরা কি কি করবে, মেয়েরা কি কি করবে তা সমাজই নির্ধারণ করে দিতো।
মেধার কোন মূল্যই থাকতোনা।
অবশ্য এসময়ে এসে নারী-পুরুষের এই বিভেদটা অনেকটা দূর হয়েছে বলা যায়,তবুও আজও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এসব যেন নিত্যদিনের ঘটনাই বলা চলে।
০১এপ্রিল ২০২০

No comments: